পাঁচ দেশের ভক্তদের পদচারণায় সোনারগাঁয়ে লোকনাথ ব্রহ্মচারীর উৎসব শুরু
![]() |
| ছবি; মুক্ত বাংলাদেশ |
আজ বুধবার (৩ জুন) ভোরের আলো ফুটতেই দেশ-বিদেশের লাখো পুণ্যার্থীর পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে বারদী আশ্রম ও এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। শুধু বাংলাদেশ নয়, সনাতন ধর্মাবলম্বী এই মহাসাধকের প্রয়াণ তিথিতে অংশ নিতে ভারত, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা থেকেও হাজার হাজার ভক্ত বারদীতে সমবেত হয়েছেন।
তিরোধান দিবস উপলক্ষে আশ্রম কমিটি দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ভোরের ঊষা কীর্তনের মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে গীতা পাঠ, বিশেষ পূজা-অর্চনা, রাজভোগ ও বাল্যভোগ প্রদান এবং ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। দিনভর ভক্তদের মনোষ্কামনা পূরণের প্রার্থনায় মুখর ছিল পুরো আশ্রম প্রাঙ্গণ। এছাড়া উৎসবকে কেন্দ্র করে বারদী এলাকায় আজ থেকে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ৫ দিনব্যাপী লোকজ মেলা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস মতে, ১৭৩০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কচুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন লোকনাথ ব্রহ্মচারী। হিমালয়ের দুর্গম মস্তকে দীর্ঘ ৪০ বছরের কঠোর সাধনা শেষে তিনি আফগানিস্তানের কাবুলে গিয়ে পবিত্র কুরআন ও ইসলামি দর্শন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। ‘মানবতাই পরম ধর্ম’—এই অমিয় বাণী বুকে ধারণ করে মানবকল্যাণে তিনি জীবনের শেষ ২৬ বছর কাটান সোনারগাঁর বারদী আশ্রমে। ১৬০ বছর বয়সে ১৯ জ্যৈষ্ঠ এই মহাপুরুষের মহাপ্রয়াণ ঘটে, যা প্রতিবছর তিরোধান দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
আশ্রমে আগত পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন (যেমন: লোকনাথ সেবা সংঘ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, সীতা রাম সংঘ ও শারদাঞ্জলি ফোরাম) প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। ভক্তদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ, খাবার স্যালাইন, বিশুদ্ধ পানি, শরবত এবং শিশুদের জন্য দুধ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বারদী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব সাংবাদিক শংকর কুমার দে জানান, দূর-দূরান্ত থেকে আসা অতিথিদের থাকা ও খাওয়ার জন্য সব ধরনের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
উৎসবের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ যৌথভাবে কাজ করছেন। সোনারগাঁ থানা বিএনপির প্রচার সম্পাদক সেলিম হোসেন দিপু ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক করিম রহমান জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান ও জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজিবের নির্দেশনায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী ভক্তদের সহায়তায় মাঠে নিয়োজিত রয়েছেন।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং চুরি-ছিনতাই রোধে আশ্রম এলাকায় পুলিশ, র্যাব, আনসার ও সেনাসদস্যদের সমন্বয়ে কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত উৎসব অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন