সোনারগাঁয়ে তিন স্কুলছাত্রের মৃত্যু, বাল্কহেডসহ আটক ৪
![]() |
| সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে তিন স্কুলছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় আটক বাল্কহেড। |
নিহত তিন শিক্ষার্থীর মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার দাফন করা হয়েছে। সকাল ১০টার দিকে বাড়ি মজলিশ হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয় যমজ দুই ভাই আরেফিন আহমেদ (১৫) ও আশেকিন আহমেদের (১৫) মরদেহ। অপর শিক্ষার্থী আবিদ হোসেনের (১৪) মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি খুলনায় নিয়ে দাফন করা হয়। তিনজনই মোগরাপাড়া এইচ জি জি এস স্মৃতি সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।
আটক ব্যক্তিরা হলেন ‘এমবি সোনারগাঁ মদিনা-৪’ বাল্কহেডের সুকানি মো. হাবিবুর রহমান (৪৫), গ্রিজার মো. আবু জাফর (৩৫), লস্কর এবাদুল হাওলাদার (২৫) ও মো. সিফাত (১৯)। বাল্কহেডটি মেসার্স রনি এন্টারপ্রাইজের মালিকানাধীন। এর নম্বর ০১-১০৭৭।
বৈদ্যেরবাজার নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক রুহুল আমিন জানান, নদীর পাড়ে থেমে থাকা বাল্কহেডের কাছে শিক্ষার্থীরা গোসল করছিল। একপর্যায়ে বাল্কহেডের ইঞ্জিন চালু করা হলে নদীর পানিতে তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণির সৃষ্টি হয়। এ সময় স্থানীয় এক নারী একজন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও অপর তিনজন পানিতে তলিয়ে যায়।
নৌপুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, নিহত দুই যমজ ভাইয়ের বাবা মোহাম্মদ ফারুক বাদী হয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তবে স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীরা বাল্কহেডে উঠে সেখান থেকে নদীতে লাফ দিয়ে গোসল করছিল। এ সময় আকস্মিকভাবে বাল্কহেডের ইঞ্জিন চালু করা হয়। এতে ইঞ্জিনের পাখার আঘাত ও পানির ঘূর্ণিতে শিক্ষার্থীরা তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা ইঞ্জিন বন্ধ করার জন্য কর্মীদের অনুরোধ করলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি এবং উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
রোববার বিকেলে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে যমজ দুই ভাই আরেফিন ও আশেকিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আবিদ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করেন ডুবুরিরা।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাল্কহেডের চালু থাকা পাখার সঙ্গে ধাক্কা লেগে শিক্ষার্থীরা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন