শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

ভূমিদস্যু ও কর্পোরেট মাফিয়াদের টার্গেটে-এমপি মান্নান

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...

ভূমিদস্যু ও কর্পোরেট মাফিয়াদের টার্গেটে-এমপি মান্নান

দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী, কর্পোরেট মাফিয়া এবং দলের অভ্যন্তরীণ একটি প্রভাবশালী চক্রের যৌথ টার্গেটে পরিণত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। সোনারগাঁয়ের উর্বর কৃষিজমি এবং মেঘনা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা করতে এমপি মান্নানের আপসহীন অবস্থানই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, সরাসরি মান্নানকে দমাতে ব্যর্থ হয়ে এখন তার পুত্র জেলা যুবদল নেতা খাইরুল ইসলাম সজীব এবং তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহযোগীদের বিতর্কিত করার এক গভীর নীল নকশা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে সোনারগাঁয়ের মেঘনা ঘাট সংলগ্ন এলাকা এবং উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের শত শত একর কৃষিজমি জোরপূর্বক দখল করে নেয় কয়েকটি প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠী। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে 'ম্যানেজ' করে নদী ও ফসলি জমি গিলে খাওয়া এই কর্পোরেট মাফিয়ারা এখনো পর্দার আড়ালে সক্রিয়। তারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে এবং পূর্বের অবৈধ দখলসমূহ বৈধ করতে মরিয়া।

অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী আমলের মতো বর্তমান সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানকে আর্থিক বা অন্য কোনো প্রলোভনে বশ করতে না পেরে মাফিয়ারা তাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার কৌশল নিয়েছে। এই মিশনের অংশ হিসেবে কর্পোরেটদের কাড়ি কাড়ি টাকায় পরিচালিত কিছু সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করে 'মিডিয়া ট্রায়াল' শুরু হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য এমপি মান্নান, তার পুত্র সজীব এবং উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও এমপির রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী সেলিম হোসেন দিপু, উপজেলা বিএনপির সদস্য বিএম ডালিম ও মাসুম রানাসহ মাঠপর্যায়ের সক্রিয় নেতাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা।

ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এর আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালায় ভূমিদস্যু চক্রটি। এমপি-পুত্র খাইরুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে কিছু বায়বীয় ও অলিখিত অভিযোগের ধুয়া তুলে গত ২১ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ ও ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশ তাকে কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে একাধিক সোর্সের মাধ্যমে গভীর তদন্ত ও নিবিড় অনুসন্ধান চালিয়েও সজীবের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম বা অপরাধের সত্যতা পায়নি পুলিশ। ফলে তাকে সম্পূর্ণ স্বসম্মানে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই চ্যাপ্টার বন্ধ হলেও কর্পোরেট মাফিয়াদের অর্থপুষ্ট মিডিয়া ও দলের ভেতরের একটি অংশ এখনো এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তৃণমূল বিএনপির ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা জানান, এই বহিরাগত মাফিয়া চক্রের অনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে গোপনে মদদ দিচ্ছেন বিএনপিরই ভেতরের কিছু সুযোগসন্ধানী ও ঈর্ষাপরায়ণ নেতা। গত জাতীয় নির্বাচনের পূর্ব থেকেই যারা আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়ন ও বিজয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন, তারাই এখন কর্পোরেটদের সাথে হাত মিলিয়েছেন।

তৃণমূলের তথ্যমতে, গত বছরের ৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মান্নানের নাম ঘোষণার পর থেকেই দলের ভেতরে কোন্দল চরম আকার ধারণ করে। সে সময় মনোনয়ন বঞ্চিত ৭ জন নেতা একজোট হয়ে মান্নানের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে দলের হাইকমান্ডের কাছে লিখিত আবেদন করেন। মান্নান নিজে রাজনৈতিক উদারতার পরিচয় দিয়ে মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন, মামুন মাহমুদ এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিমের বাসভবনে গিয়ে দোয়া ও নির্বাচনী সহযোগিতা চাইলেও তাদের মন গলেনি। উল্টো ধানের শীষের প্রার্থীকে পরাস্ত করতে ওই নেতাদের গোপন বৈঠকের ছবি ও মানববন্ধন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, যা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল ছিল।

সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীদের মতে, আজহারুল ইসলাম মান্নান কোনো উড়ে এসে জুড়ে বসা নেতা নন। ১/১১-এর ফখরুদ্দীন-মঈনউদ্দীন সরকারের আমল থেকে শুরু করে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী আমল পর্যন্ত প্রতিটি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৪ সালে সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক ডজন খানেক মামলার কারণে মাত্র ১ বছরও তিনি চেয়ারে বসতে পারেননি, প্রায় ৪ বছরেরও বেশি সময় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে রাখা হয়। তৎকালীন সরকারি দল বা জাতীয় পার্টির সাথে আঁতাত করলে তিনি পুরো মেয়াদ পার করতে পারতেন, কিন্তু দলের আদর্শ ও দেশের স্বার্থে তিনি আপস করেননি।

আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে মান্নান ও তার পুত্র খায়রুল ইসলাম সজীব যৌথ ও পৃথকভাবে ৬০টিরও বেশি রাজনৈতিক মামলার আসামি হয়েছেন। ২০২৩ সালের ১৫ মে আদালতে হাজিরা দিতে গেলে পিতা-পুত্রসহ ১৬ জন নেতাকর্মীকে হাতে হাতকড়া পরিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়, যা সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এমনকি ২০১৮ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে তার স্কুলপড়ুয়া ছোট ছেলে সাকিব—যে রাজনীতির সাথে জড়িতই ছিল না—তাকেও পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকায় জেলা ও মহানগর বিএনপির স্থায়ী কার্যালয়টি সিটি কর্পোরেশন থেকে বরাদ্দ নেওয়ার পেছনে মান্নানের একক বিপুল পরিমাণ আর্থিক অনুদান ছিল।

সোনারগাঁয়ের সাধারণ নেতাকর্মীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিগত দুঃসময়ে যখন তথাকথিত শীর্ষ নেতারা নিজেদের গুটিয়ে রেখে আরাম-আয়েশে দিন কাটিয়েছেন, তখন হামলা-মামলার শিকার অসহায় কর্মীদের জামিন করানো, জেলখানার খরচ বহন করা এবং আহত-নিহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন একমাত্র আজহারুল ইসলাম মান্নান। এখন সুসময়ে এসে যারা মাফিয়াদের টাকা খেয়ে দলের ত্যাগী ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতৃত্বকে উপড়ে ফেলতে চাচ্ছে, সোনারগাঁয়ের সচেতন জনতা ও বিএনপির সাধারণ কর্মীরা রাজপথেই তাদের সেই ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেবে।

এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন,সোনারগাঁয়ের মাটি ও মানুষের অধিকার রক্ষা এবং দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাশে থাকা আমার রাজনৈতিক জীবনের মূল ব্রত। ওয়ান-ইলেভেন কিংবা বিগত স্বৈরাচারী সরকারের পনেরো বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা রাজপথে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছি, শত মামলার মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু কখনো আদর্শের সাথে আপস করিনি। সোনারগাঁয়ের উর্বর কৃষিজমি, সাধারণ মানুষের অধিকার এবং মেঘনা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলকে যেকোনো মূল্যে অবৈধ দখলদার ও ভূমিদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। কোনো ধরনের অপপ্রচার, মিডিয়া ট্রায়াল বা অভ্যন্তরীণ চক্রান্ত করে আমাদের এই অগ্রযাত্রাকে থামানো যাবে না। তৃণমূলের সাধারণ মানুষ ও মাঠপর্যায়ের কর্মীরাই আমার মূল শক্তি, তাদের সাথে নিয়েই আমরা সব ষড়যন্ত্র শক্ত হাতে মোকাবেলা করব এবং সোনারগাঁকে একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলব।

শিরোনাম...

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন