সোনারগাঁয়ে গ্রামবাসীর ত্রিমুখী লড়াই: বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, এলাকায় সেনা টহল

মুক্ত বাংলাদেশ
বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ | জানুয়ারি ২২, ২০২৬ Last Updated 2026-01-22T09:41:29Z


নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নে  আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তিন গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং বাড়িঘর ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য খাসেরগাঁও গ্রামের মনির হোসেন ও ছোট কোরবানপুর গ্রামের রাসেল মিয়ার সঙ্গে পাঁচানি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুল ইসলাম হামিদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার দুপুরে এই দ্বন্দ্বের জের ধরে পাঁচানি, খাসেরগাঁও ও ছোট কোরবানপুর গ্রামের বাসিন্দারা দা, বটি, টেঁটা, বল্লম, লোহার রড ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।


সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ পাঁচানি গ্রামের বাসিন্দা বজলু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, "খাসেরগাঁওয়ের মনির মেম্বার ও ছোট কোরবানপুরের রাসেল মিয়া এলাকায় মাদক ব্যবসা ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। আমরা এর প্রতিবাদ করায় তারা প্রায় ৩০০ লোক নিয়ে আমাদের গ্রামে হামলা চালায়। তারা বাড়িঘর ও দোকানপাটে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এমনকি মসজিদের ছাদে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের ওপরও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।"


অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ছোট কোরবানপুর গ্রামের রাসেল মিয়া বলেন, "আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হামিদ মিয়া একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আমাদের এলাকা ছাড়া করেছিলেন। বুধবার সকালে আমাদের ছেলেরা নদীতে গেলে হামিদ মিয়ার লোকজন তাদের মারধর করে। মূলত এর জেরেই গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।"


পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, গত সপ্তাহে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও হামিদ মিয়ার অসহযোগিতায় তা সম্ভব হয়নি। সংঘর্ষের ফলে বেশ কিছু দোকান ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিবুল্লাহ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। তিনি বলেন, "প্রশাসনের লোকজন সরে গেলেই আবার হামলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"


বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক কাজ করছে। আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


Comments
মন্তব্য করার ক্ষেত্রে অনুগ্রহ পূর্বক অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ, গালিগালাজ, ব্যাক্তিগত আক্রমণ, নাম বিকৃত করা থেকে বিরত থাকুন।
  • সোনারগাঁয়ে গ্রামবাসীর ত্রিমুখী লড়াই: বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, এলাকায় সেনা টহল

জনপ্রিয়