নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবৈধ তিনটি ঢালাই কারখানার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার দিনব্যাপী পিরোজপুর ইউনিয়নের ঝাউচর এলাকায় পরিচালিত এই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তিনটি অবৈধ ঢালাই কারখানা ও একটি হোটেলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনিম সোহানার নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
তিতাস কর্তৃপক্ষ জানায়, উচ্ছেদকৃত কারখানাগুলো কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বার্ণার ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরি আসছিল। অভিযানে একটি অবৈধ ঢালাই কারখানার ভাট্টি এবং একটি নামবিহীন হোটেলের ২টি বার্ণার উচ্ছেদ করা হয়। এখান থেকে ১০ ফুট পাইপ ও রেগুলেটর জব্দ করা হয় অপর কারখানার ভাট্টি উচ্ছেদসহ ২০ ফুট এমএস পাইপ এবং ৬টি মোল্ডিং ছাঁচ জব্দ করা হয়।
আরও একটি ঢালাই কারখানার ভাট্টি বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি ১টি জেনারেটর, এয়ার ব্লোয়ার ও ফ্যান জব্দ করা হয়।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কারিগরি তথ্যমতে, এই অভিযানের ফলে প্রতি ঘণ্টায় মোট ৩,০৯০ ঘনফুট গ্যাস লোড সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি কারখানা থেকেই ৩,০০০ ঘনফুট গ্যাস চুরি হচ্ছিল। আর্থিক হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ৬৩,০০০ টাকার সমপরিমাণ রাষ্ট্রীয় গ্যাস অপচয় রোধ করা হয়েছে।
"অবৈধ সংযোগের উৎস পয়েন্টগুলোতে কিলিং ও ক্যাপিং করে স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে যাতে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করতে না পারে।"
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনিম সোহানা জানান, অভিযানের সময় কারখানার স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও মালিকদের কাউকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জেল বা জরিমানা করা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারি সম্পদ রক্ষায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও কঠোর ও জোরদার করা হবে।

