আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-০৩ আসনের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার ৫নং ওয়ার্ডের তিনটি ভোটকেন্দ্রকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে সেখানে সার্বক্ষণিক সেনাবাহিনী মোতায়েনের লিখিত দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রিটার্নিং অফিসার ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর এই আবেদন দাখিল করেন তিনি।
আবেদনে প্রার্থী অভিযোগ করেন, ৫নং ওয়ার্ডের রেবতী মোহন পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ-১, ২ ও ৩ (কেন্দ্র নং- ১৭৩, ১৭৪ ও ১৭৫) অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এই কেন্দ্রগুলো তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (ফুটবল প্রতীক) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের বাসভবনের ঠিক পাশেই অবস্থিত।
আজহারুল ইসলাম মান্নান তার আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন:"উক্ত কেন্দ্রগুলো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বাড়ির নিকটবর্তী হওয়ায় নির্বাচনের দিন কেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, জাল ভোট প্রদান এবং বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও বোমা হামলার তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে।"
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী প্রচারণাকালীন সময়েও উক্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিকবার আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জেলা প্রশাসক ও বিজিবি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট চলাকালীন সময় পর্যন্ত ওই তিনটি কেন্দ্রে 'ক্যাম্পড' বা সার্বক্ষণিক সেনা মোতায়েন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, আবেদনটি আমলে নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রক্রিয়া চলছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন থাকবে।

