সোনারগাঁয়ে সহস্রাধিক পরিবার জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি
![]() |
| জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি পাটাত্তা গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার। |
এভাবেই দিন কাটছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের পাটাত্তা গ্রামের সহস্রাধিক পরিবারের। সামান্য বৃষ্টি হলেই গ্রামজুড়ে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। পানি নামার কার্যকর পথ না থাকায় দিনের পর দিন জমে থাকে সেই পানি। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে মশার উপদ্রব ও নানা রোগের আশঙ্কা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় পাটাত্তা গ্রামে এমন জলাবদ্ধতার সমস্যা ছিল না। তবে কাঁচপুর বাস টার্মিনাল নির্মাণসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য জলাশয় ও নিচু জমি ভরাট হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। একই সঙ্গে খাল ও পানি চলাচলের পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি বের হতে পারছে না বলে অভিযোগ তাঁদের।
সম্প্রতি এক দিনের বৃষ্টিতেই গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। পানি ঢুকে পড়ে বাড়িঘর, দোকানপাট ও রাস্তায়। কোথাও কোথাও সেচ পাম্প দিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা করা হলেও পানি বের হওয়ার স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় কিছুদিন পর আবারও একই চিত্র দেখা দেয়।
সরেজমিনে পাটাত্তা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অনেক বাড়ির উঠানে জমে আছে বৃষ্টির পানি। বাড়ি থেকে রাস্তায় যাওয়ার জন্য কেউ বালুর বস্তা, কেউ গাছের গুঁড়ি, আবার কেউ সিমেন্টের পাটাতন ব্যবহার করছেন। পানির কারণে দোকানদারদেরও পড়তে হচ্ছে দুর্ভোগে। শিশুদের স্কুল-মাদ্রাসায় যাতায়াতেও তৈরি হয়েছে ভোগান্তি।
স্থানীয় বাসিন্দা সালমা বেগম বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘর ও রাস্তায় পানি উঠে যায়। সম্প্রতি পানি দোকানের ভেতরে ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়েছে। পানির মধ্যে বসে দোকান করায় আমার ছেলে কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভুগছে। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতেও সমস্যা হচ্ছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা লুৎফর খন্দকার বলেন, বছরের বড় একটি সময় গ্রামটি পানির নিচে থাকে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। দীর্ঘ সময় নোংরা পানির মধ্যে চলাচল করায় বাসিন্দাদের নানা শারীরিক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
কবির হোসেন নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, কাঁচপুর এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জায়গা ভরাট করা হয়েছে। এতে পানি নিষ্কাশনের খাল ও পথগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। সেচ পাম্প দিয়ে সাময়িকভাবে পানি সরানো হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
মোজাম্মেল খন্দকার বলেন, বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ার পর তা বের হওয়ার পথ না থাকায় দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতা থাকে। এতে মশার উপদ্রবও বেড়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম বলেন, পাটাত্তা গ্রামের পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণের একটি প্রকল্প উপজেলা প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন তিনি।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, পাটাত্তা গ্রামের জলাবদ্ধতার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। এলাকাটি জনবহুল ও বিস্তৃত হওয়ায় অল্প অর্থে বড় ধরনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা কঠিন। তবে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সেচ পাম্প দিয়ে পানি সরিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। তাঁদের দাবি, পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণের পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া খাল ও পানি চলাচলের পথগুলো পুনরুদ্ধার করতে হবে। তবেই বর্ষা এলেই পানিবন্দি হয়ে পড়ার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে পাটাত্তা গ্রামের মানুষের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন