বিএনপিতে অরাজকতা সৃষ্টিকারী বহিষ্কৃত নেতা—কে এই আশরাফ?

মুক্ত বাংলাদেশ
মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ | নভেম্বর ২৫, ২০২৫ Last Updated 2025-11-25T16:58:48Z

সোনারগাঁ উপজেলা যুবদল থেকে সদ্য বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আলম আশরাফ প্রধানকে ঘিরে বিএনপির রাজনীতিতে চরম সমালোচনা ও ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাকে অযোগ্য, অবান্তর ও দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের মূল নায়ক হিসেবে চিহ্নিত করে অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

দলীয় সূত্র ও স্থানীয়দের অভিযোগ, আশরাফ প্রধান দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার ছায়ায় থেকে এলাকায় দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। যুবদলের দায়িত্বে থাকলেও তার আপন ভাই আওয়ামী লীগ নেতা শাহাবুদ্দিন প্রধান—বৈষম্য বিরোধী ছাত্রজনতা আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামি—এর সাথে মিলেমিশে মেঘনা শিল্পাঞ্চলে প্রভাব বিস্তার ও অপকর্ম পরিচালনা করতেন।

অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের ঘটনার পর থেকেই আশরাফ আ'লীগের নেতা থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে বিভ্রান্তি ছড়ানো, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করা এবং দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর পরিকল্পনায় যুক্ত হন। এসবের ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে তারেক রহমান ঘোষিত বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন তিনি।

তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রকাশ্যে মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে মশাল মিছিল করার পর যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে সব পদ থেকে বহিষ্কার করে। বহিষ্কারের পরও আশরাফ প্রধান দল ও মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল বিএনপি নেতারা। তাদের মতে, তিনি আওয়ামী লীগের স্বার্থেই বিএনপিকে বিভক্ত ও দুর্বল করতে মাঠে নেমেছেন।

মেঘনা শিল্পাঞ্চলে আশরাফ প্রধানের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সন্ত্রাসী চক্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান দখল, চাঁদাবাজি, মহাসড়কে ডাকাতি এবং নদীপথে চোরাই তেলের ব্যবসায় জড়িত—এমন অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের। মাগুরা পেপার মিলস, স্যামসাং পাওয়ার প্লান্ট, আল মোস্তফা, আনন্দ শিপইয়ার্ড, বাংলা ডগইয়ার্ড, লাকি শিপইয়ার্ডসহ প্রায় ২০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মেঘনা নিউটাউন মসজিদ মার্কেটের দোকানদাররা জানান, প্রতিদিন ২০০ থেকে ৪০০ টাকা চাঁদা না দিলে দোকান উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়। দোকানদার মিন্টু মিয়া বলেন, “চাঁদা না দিলে দোকানে হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দেয় আশরাফের লোকজন।” এমনকি মসজিদ মার্কেটের উন্নয়ন তহবিল নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

তৃণমূল বিএনপি নেতারা বলেন, আশরাফ প্রধান দলে বিভ্রান্তি তৈরি, মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার, অরাজকতা সৃষ্টি এবং আওয়ামী লীগের স্বার্থে কাজ করার কারণে সম্পূর্ণ অবান্তর ও অযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। তারা দাবি করেন, সংগঠনকে রক্ষা করতে হলে আশরাফ প্রধানের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

Comments
মন্তব্য করার ক্ষেত্রে অনুগ্রহ পূর্বক অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ, গালিগালাজ, ব্যাক্তিগত আক্রমণ, নাম বিকৃত করা থেকে বিরত থাকুন।
  • বিএনপিতে অরাজকতা সৃষ্টিকারী বহিষ্কৃত নেতা—কে এই আশরাফ?

জনপ্রিয়