নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী অটোরিকশা চালক মো. সোহেল (৪১) হত্যার ঘটনায় মাত্র চার দিনের মাথায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাইকৃত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি।
পিবিআই জানিয়েছে, গত ২৩ জানুয়ারি সোনারগাঁ, আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: মো. সুজন মিয়া (৩৩), মো. শফিকুল ইসলাম হীরা (৩৯), মো. দুলাল মিয়া (৪৫), মো. আব্দুর রহিম মিয়া (৫৫), মো. আবুল কাশেম (৪০)।
পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে লোমহর্ষক তথ্য। অর্থের অভাবে আসামি সুজন ও শফিকুল পূর্বপরিকল্পিতভাবে সোহেলকে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ছক কষে। গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে তারা কৌশলে সোহেলের রিকশা ভাড়া করে একটি বাজারে যায় এবং সেখানে তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে মুছারচরের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে সোহেলের নাক, মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।
গত ২০ জানুয়ারি সকালে সোনারগাঁয়ের জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর এলাকায় রাস্তার পাশে একটি অজ্ঞাত লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে সেটি নিখোঁজ সোহেলের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. মহাসিন মিয়া বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলা করলে পিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করে।
তদন্তে জানা যায়, হত্যার পর অটোরিকশাটি রূপগঞ্জ এলাকার একটি গ্যারেজে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এবং পরে তা বিক্রি করে দেওয়া হয়। গ্রেপ্তারকৃত বাকি তিন আসামি দীর্ঘদিন ধরে চোরাই অটো কেনাবেচার চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) জানান, "গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।"
শারীরিক প্রতিবন্ধী সোহেলের এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও এলাকাবাসী।

