শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

ফেসবুকের ভিডিও বদলে দিলো বৃদ্ধা সুফিয়া বেগমের জীবন

প্রকাশঃ


মাথার ওপর ছিল না টেকসই কোনো ছাউনি, ভাঙাচোরা কাগজের ছাপড়া ঘরেই কাটছিল দিনরাত। সামান্য বৃষ্টিতেই ভিজে একাকার হতে হতো ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা সুফিয়া বেগমকে। তবে এবারের ঈদুল ফিতর তার জীবনে বয়ে এনেছে অন্যরকম এক সার্থকতা। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে লড়াই করা এই বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি, যার উদ্যোগে ঈদ উপহার হিসেবে সুফিয়া বেগম পেয়েছেন একটি নতুন টিনের ঘর।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বারদী ইউনিয়নের আলগীর চর এলাকার বাসিন্দা সুফিয়া বেগমের জীবনকাহিনি অত্যন্ত কষ্টের। প্রায় বিশ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর সাত সন্তানকে নিয়ে মানুষের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। তবে সময়ের ব্যবধানে সন্তানরা তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় গত দুই বছর ধরে চরম অবর্ণনীয় কষ্টে একটি অস্থায়ী ছাপড়া ঘরে বসবাস করছিলেন তিনি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুফিয়া বেগমের মানবেতর জীবনযাপনের একটি ভিডিও চিত্র ছড়িয়ে পড়লে তা নজরে আসে বারদী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ আমিন হোসেনের। ভিডিওতে বৃদ্ধার আকুতি ছিল— অন্তত মরার আগে যেন মাথার ওপর একটু টিনের ছাউনি জোটে। এই আহবানে সাড়া দিয়ে আমিন হোসেন ব্যক্তিগত অর্থায়নে ঈদের আগের দিনই তাকে একটি সম্পূর্ণ নতুন টিনের ঘর তৈরি করে দেন।

নতুন ঘর পেয়ে আবেগপ্লুত সুফিয়া বেগম বলেন, "আমি অনেক কষ্টে দিন কাটাইতাম। আমিন মেম্বার আমারে শুধু ঘরই দেয় নাই, সাথে নতুন শাড়ি আর ঈদের খাবারও দিছে। আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন উনার পরিবার নিয়া সুস্থ থাকেন।"

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মোঃ আমিন হোসেন জানান, মানুষের সেবা করাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, অসহায় মানুষের পাশে থাকতে পেরে আমি মানসিক শান্তি পাই। কোনো স্বার্থের জন্য নয়, বরং মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমি সুফিয়া বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছি। ভবিষ্যতে এমন সেবামূলক কাজ আমি অব্যাহত রাখতে চাই।

স্থানীয়রা জানান, জনপ্রতিনিধিদের এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজের অবহেলিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর পাশাপাশি অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।


এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন