বাবার মৃ'ত্যু'র খবর দিতে গিয়ে মিলল ছেলের ঝুলন্ত ম'র'দে'হ
![]() |
| প্রতিক ছবি |
মৃত বাবার নাম শাহজাহান (৬০), তিনি পেশায় সিএনজি চালক ছিলেন। অন্যদিকে আত্মহননকারী ছেলের নাম উজ্জল (৩৬), তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, উজ্জল মাদকাসক্ত ছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শাহজাহান দমদমা ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় নিজস্ব বাড়ি তৈরি করে পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন। তবে বেশ কিছুদিন আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি অনেকটা পঙ্গু হয়ে পড়েন। পারিবারিক কলহের জেরে তার স্ত্রী মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। এক ছেলে জসিম সৌদি প্রবাসী এবং মেয়ে পুনরায় বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান।
উজ্জল একসময় বিদেশে থাকলেও দেশে ফিরে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে একাই থাকতেন। বাবা ও ছেলের সম্পর্ক ভালো না থাকায় একই বাড়িতে থাকলেও শাহজাহান একটি জীর্ণশীর্ণ ভাঙা ঘরে চরম কষ্টে দিনযাপন করতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার মাগরিবের পর শাহজাহান হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার জামাতা (মেয়ের স্বামী) জামাল হোসেন তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই হার্টঅ্যাটাকে শাহজাহানের মৃত্যু হয়েছে।
আজ রাতে হাসপাতাল থেকে শ্বশুরের মরদেহ বাড়িতে এনে রাস্তার পাশে রাখেন জামাল। এরপর ক্ষোভ ও দুঃখ নিয়ে শ্যালক উজ্জলকে বাবার মৃত্যুর খবর দিতে তার ঘরের দরজা ধাক্কাতে থাকেন। দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে জানালার একটি অংশ খুলতেই ভেতর থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ বের হয়। পরে জানালার পর্দা সরাতেই ঘরের ভেতর উজ্জলের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তিনি।
জামাতা জামাল হোসেন বলেন, আমি ভেবেছিলাম শ্বশুর মারা গেছেন আর শ্যালক হয়তো নেশাগ্রস্ত হয়ে ঘরে দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে আছে। চরম ক্ষোভ নিয়ে ওকে ডাকতে গিয়েছিলাম। কিন্তু জানালার ফাঁক দিয়ে যে দুর্গন্ধ বের হয়, তাতে আমার বমি হওয়ার উপক্রম হয়। পরে ভেতরে তাকিয়ে দেখি ওর লাশ ঝুলছে।
খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ঘরের ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ানোয় ধারণা করা হচ্ছে, বাবার মৃত্যুর অন্তত ১-২ দিন আগেই উজ্জল আত্মহত্যা করেছেন। এই জোড়া মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন