শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

মাসোয়ারার চশমায় ‘অন্ধ’ তিতাস! আ’লীগ নেতা নেয়ামতের গ্যাস চুরির মহোৎসব

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...

ছবি; মুক্ত বাংলাদেশ

দফায় দফায় অভিযান আর সংযোগ বিচ্ছিন্নের নাটক চললেও অদৃশ্য এক শক্তির ইশারায় বারবার জ্বলে উঠছে অবৈধ চুল্লি। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রাজনৈতিক ভোলবদলকারী ও আলোচিত গ্যাস চোর নেয়ামত উল্লাহর অবৈধ সাম্রাজ্য নিয়ে জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন? তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ কি তবে এই চুন ব্যবসায়ীর পকেটে? প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারের বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট হলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিতাস ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সোনারগাঁয়ে নিজের অবৈধ সিন্ডিকেট টিকিয়ে রেখেছেন নেয়ামত উল্লাহ। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে তিনি ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালামের ছায়াসঙ্গী। তবে সরকার পতনের পর রাতারাতি ‘বিএনপি’ নেতা সেজে বসেছেন এই সুযোগসন্ধানী।

যদিও স্থানীয় বিএনপি নেতারা তাকে ‘বহুরূপী সুযোগসন্ধানী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, তবুও দলের নাম ভাঙিয়ে মহাসড়কের পিরোজপুর এলাকায় তার অবৈধ চুন কারখানা দাপটের সঙ্গেই চলছে। অভিযোগ রয়েছে, এই রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের মূল লক্ষ্যই হলো অবৈধ গ্যাস সংযোগ টিকিয়ে রাখা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের একটি অসাধু চক্রকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের মাসোহারা দেন নেয়ামত। যার ফলে মাঝেমধ্যে তিতাস লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে কারখানা গুঁড়িয়ে দিলেও রহস্যজনক কারণে কয়েক দিনের মাথায় তা আবার সচল হয়ে যায়।

জঙ্গলঘেরা এলাকায় প্রশাসনের নাকের ডগায় এই অবৈধ ব্যবসা চললেও নেওয়া হচ্ছে না কোনো স্থায়ী কঠোর পদক্ষেপ। মাসে সরকারের প্রায় অর্ধকোটি টাকার গ্যাস পুড়লেও তিতাসের এই রহস্যজনক নীরবতায় জনমনে সন্দেহ দানা বাঁধছে, তিতাস ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা কি তবে মাসোয়ারার বিনিময়ে চোখে ‘কাঠের চশমা’ এঁটেছেন?, প্রশাসনের কি চোখ নেই?, তারা কি দেখেও দেখছে না?, নাকি তারাও নেয়ামতের এই অবৈধ আয়ের মাসোয়ারার ভাগীদার?।

উচ্চচাপে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করে চুন তৈরির ফলে একদিকে সরকার প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের চরম ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই অবৈধ সিন্ডিকেটের খুঁটির জোর এতোটাই গভীরে যে, প্রশাসনের সাধারণ বা রুটিন অভিযানে তাদের কিছুই যায় আসে না। স্থায়ীভাবে কারখানা সিলগালা এবং দায়ীদের গ্রেপ্তার না করায় এই চক্রটি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

এই অবৈধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়েছেন তিতাস গ্যাস মেঘনা জোনের ব্যবস্থাপক সুরজিত সাহা। তিনি বলেন, সোনারগাঁয়ে নেয়ামত উল্লাহ ও বাচ্চুর মতো যারা অবৈধভাবে গ্যাস পুড়িয়ে চুন কারখানা সচল রেখেছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের সমস্ত নথিপত্র ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আমাদের জেলা দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই তারা বড় ধরনের আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

তিতাস কর্তৃপক্ষ ‘দ্রুত ব্যবস্থা’ নেওয়ার আশ্বাস দিলেও সাধারণ মানুষের মাঝে সংশয় কাটছে না। এলাকাবাসীর মতে, এই আশ্বাস অতীতেও বহুবার দেখা গেছে। এবারও কি অভিযানের নামে প্রহসন হবে, নাকি সত্যিই কোনো কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছে সোনারগাঁয়ের সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ চোরদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে তিতাসের বিশ্বাসযোগ্যতা পুরোপুরি খাদের কিনারায় গিয়ে ঠেকবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নেয়ামত উল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তার মন্তব্য সংযোজন করা সম্ভব হয়নি।

শিরোনাম...

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন