ভাঙন ঝুঁকিতে আনন্দবাজার হাটসহ ৪ গ্রাম, রক্ষায় শত শত মানুষের মানববন্ধন
ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা জানান, মেঘনা নদীর এই ভাঙনের কারণে তাদের পৈতৃক ভিটামাটি, শত শত বিঘা ফসলি জমি, স্থানীয় মসজিদ ও গোরস্থান এখন বিলীনের পথে। ভাঙন রোধে অবিলম্বে বালু উত্তোলন বন্ধ করার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, এই তীব্র নদীভাঙনের নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মামুন এবং বালু উত্তোলনের ইজারাদার মমিন শিকদার। তারা দুজন পরস্পর যোগসাজশে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দিন-রাত মেঘনা নদী থেকে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও জোরপূর্বক ফসলি জমি কেটে নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্বে মামুন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতের ঘনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি বর্তমানে বিএনপির রাজনৈতিক প্রভাব অপব্যবহার করছেন এবং ইজারাদার মমিন শিকদারকে সাথে নিয়ে এই বালু সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন। এছাড়া নদীতে যত্রতত্র ড্রেজার বসানোর কারণে প্রায় ৪-৫ শতাধিক প্রান্তিক মৎস্যজীবীর জীবিকাও বন্ধ হয়ে গেছে।
জহিরুদ্দিন নামের এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের বাপ-দাদার ৪০ বছরের ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আনন্দবাজার হাট আর আমাদের গ্রামগুলো যদি ভেঙে যায়, তবে আমাদের সপরিবারে রাস্তায় বসা ছাড়া উপায় থাকবে না। মামুন আর মমিন শিকদারের এই কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে আমাদের উল্টো মিথ্যা মামলা ও প্রশাসনের ভয় দেখানো হচ্ছে।
অন্যান্য ভুক্তভোগীরাও অভিযোগ করেন, বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কথা বললে মামুন, মমিন ও তাদের অনুসারীরা গ্রামবাসীদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন, যার ফলে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান মামুন তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কোনো অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত নই। স্থানীয় একটি পক্ষ আমাদের রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে এই মানববন্ধন করিয়েছে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমরা তদন্ত করব। তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন