সোনারগাঁয়ে ‘বিস্তারিত আসছে...’ আতঙ্ক! ফেসবুক আইডিই যখন চাঁদাবাজির লাইসেন্স
জানা গেছে, ঐতিহ্যবাহী সোনারগাঁ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিস, হাট-বাজার, জমি সংক্রান্ত বিরোধের স্পট কিংবা তৈরি পোশাক কারখানাগুলো এখন এই চক্রের প্রধান চারণভূমি। সাধারণ মানুষ বা ব্যবসায়ীদের কোনো দুর্বলতা বা ঝামেলার খবর পেলেই ঝাঁকের কৈ-এর মতো হাজির হয়ে যায় এই যুবকেরা। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা বা সাংবাদিকতার ন্যূনতম ব্যাকরণ না মেনেই শুরু করে দেয় মোবাইল ফোনের ক্যামেরা উঁচিয়ে ফেসবুক লাইভ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই চক্রের সাংবাদিকতার দৌরাত্ম্য মূলত চলে ফেসবুকের ইনবক্স আর বিকাশের নম্বরে। কোথাও কোনো ঘটনার সূত্রপাত হলেই ফেসবুকে একটা চটকদার এবং একপাক্ষিক ক্যাপশন দিয়ে ‘বিস্তারিত আসছে’ লিখে পোস্ট বা লাইভ করা হয়। এরপর শুরু হয় পর্দার পেছনের দরকষাকষি। সেই পোস্ট ডিলেট করা বা ভিডিও সরিয়ে নেওয়ার বিনিময়ে দাবি করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা। দাবি পূরণ হলে পোস্ট গায়েব হয়ে যায়, আর টাকা না দিলে বস্তুনিষ্ঠতাহীন, একপাক্ষিক ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ভুক্তভোগীকে সামাজিকভাবে হেনস্তা করা হয়।
এই অপসাংবাদিকতার জোয়ারে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ সোনারগাঁয়ের প্রবীণ ও মূলধারার পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা বলছেন, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে ফেসবুক আইডি দিয়ে যে অনিয়ম চলছে, তা সাংবাদিকতা নয়, বরং সুস্পষ্ট অপরাধ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সোনারগাঁয়ের একজন সিনিয়র সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—ডায়েরিতে দু-চার লাইন লিখলেই যেমন কেউ কবি বা সাহিত্যিক হয়ে যান না, ঠিক তেমনি ফেসবুক আইডি বা পেজে একটা ভিডিও ছেড়ে দিলেই কেউ সাংবাদিক হতে পারেন না। ফেসবুক কেবল একটি প্রচারের প্ল্যাটফর্ম, এটি কোনো পেশার পরিচয় বা লাইসেন্স হতে পারে না। স্মার্টফোন হাতে থাকলেই বড়জোর ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ বা নাগরিক সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব, কিন্তু সাংবাদিকতার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা ও সততা প্রয়োজন।
মাঠপর্যায়ে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে যে সমস্ত সাংবাদিকরা মূলধারার গণমাধ্যমে (টেলিভিশন ও জাতীয় দৈনিক) সততার সাথে কাজ করছেন, এই ফেসবুক সাংবাদিকদের কারণে তারা এখন চরম প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন। সাধারণ মানুষ এবং প্রশাসনের কাছে সামগ্রিকভাবে সাংবাদিকদের মূল্যায়ন ও মর্যাদা আজ প্রশ্নবিদ্ধ।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি, সোনারগাঁয়ের গণমাধ্যম পরিবেশকে কলঙ্কমুক্ত করতে এবং সাধারণ মানুষকে এই ডিজিটাল হ্যারাসমেন্ট ও চাঁদাবাজি থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। অন্যথায়, সাংবাদিকতার মতো একটি পবিত্র পেশা সোনারগাঁয়ে পুরোপুরি ব্ল্যাকমেইলারদের দখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন