সোনারগাঁয়ে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে রোগী হত্যা, মালিকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
![]() |
| ছবি; মুক্ত বাংলাদেশ |
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন, সজিব আহম্মেদ, মো. উজ্জল, শাফায়েত, মো. রমজান, মো. মামুন, মো. মনির, মো. হানিফ, রকি ও আনিস।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় সজিব আহম্মেদ, রকি ও মনির হোসেনের যৌথ অংশীদারত্বে এই এভারগ্রিন মাদক নিরাময় কেন্দ্রটি গড়ে ওঠে। মাদকাসক্ত স্বজনদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার আশায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পরিবারগুলো এখানে রোগী ভর্তি করাতেন। তবে সুস্থ করার নামে প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি থাকা ব্যক্তিদের ওপর নিয়মিত লাঠিসোটা দিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
উক্ত কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন মাসুদ নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান,আমাদের এখানে প্রায়ই মারধর করা হতো। ঘটনার দিন নিহত ফয়জুলসহ প্রায় ১২ জনকে নিষ্ঠুরভাবে পেটানো হয়। আমাকেও লাঠি দিয়ে হাতে আঘাত করে জখম করা হয়েছে।
নিহত ফয়জুল মিয়ার স্ত্রী মাসুদা বেগম জানান, স্বামীকে মাদকের অন্ধকার পথ থেকে ফিরিয়ে আনতেই তিনি বুক ভরা আশা নিয়ে এই নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেছিলেন। গত ঈদের পরদিনও তিনি নিজে এসে স্বামীকে খাবার খাইয়ে যান। কিন্তু গতকাল বুধবার রাতে আকস্মিক খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে গিয়ে স্বামীর মরদেহ দেখতে পান। তিনি অভিযোগ করেন, নিরাময় কেন্দ্রের কর্মচারীদের নির্মম আঘাতেই তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,অভিযোগ পাওয়ার পরপরই থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। আসামিদের দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে।
উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে ওই মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ফয়জুল মিয়াকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই নিহতের মরদেহ হাসপাতালে ফেলে রেখে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ করে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পালিয়ে যান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন