শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

পিরোজপুর কার দখলে যাবে? মুখোমুখি বিএনপির দুই পক্ষ

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...


নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া গরম হতে না হতেই মাঠ দখলের লড়াইয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন একই দলের দুই নেতা। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়াইয়ের ঘোষণা দেওয়া বিএনপির দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত মাঠে নামতে হয়েছে প্রশাসনকে।

আজ বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার প্রতাপের চর এলাকায় এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের কর্মসূচিই নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য মাসুম রানা। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কিছুদিন ধরেই এলাকায় দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ঠোকাঠুকি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার বিকেলে প্রতাপের চর এলাকায় রফিকুল ইসলামের একটি পূর্বনির্ধারিত নির্বাচনী উঠান বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই কর্মসূচি পণ্ড করতে একই সময়ে ও একই স্থানে পাল্টা চড়ুইভাতি বা ভূরিভোজের আয়োজন করেন মাসুম রানার সমর্থক ইকবাল হোসেন। সেখানে বিশাল প্যান্ডেল টাঙিয়ে রান্নাবান্নার তোড়জোড় শুরু হলে দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।

উত্তেজনাকর এই পরিস্থিতির জন্য উভয় প্রার্থীই একে অপরকে দায়ী করেছেন।

উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমাদের পূর্বনির্ধারিত শান্তিপূর্ণ বৈঠকটি বানচাল করতেই ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে রান্নাবান্নার আয়োজন করা হয়। আমি তাদের অন্য কোথাও আয়োজন করতে অনুরোধ করলেও তারা শোনেনি, উল্টো হামলার ছক কষেছিল। যারা এই আয়োজনের নেপথ্যে রয়েছে, বিশেষ করে ইকবাল হোসেন, সে একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। পুলিশ তদন্ত করলেই তার আসল চেহারা বেরিয়ে আসবে। তবে আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাই প্রশাসনের নির্দেশে কর্মসূচি স্থগিত করেছি।

অন্যদিকে পাল্টা অভিযোগ করে উপজেলা যুবদলের সদস্য মাসুম রানা বলেন, আমাদের এই কর্মসূচি কোনো আকস্মিক বিষয় ছিল না। আমরা ১৫ দিন আগেই মা-বোন ও কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। উল্টো রফিকুল ইসলাম রাজনৈতিকভাবে আমাদের কোণঠাসা করতে একই দিনে সভা ডেকেছেন। আর ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এদিকে সভার আয়োজক ও মাসুম রানার সমর্থক ইকবাল হোসেনের দাবি, তিনি মাসুম রানার একনিষ্ঠ সমর্থক হওয়ায় তাকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরই প্রতিবাদে এবং নিজের শক্তির জানান দিতেই তিনি সভার পাশাপাশি এই দুপুরের খাবারের আয়োজন করেছিলেন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার জানান, একই স্থানে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে দুটি সভাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত জানান, বিষয়টি তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না। তবে স্থানীয় শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ যে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে, তা জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে।

শিরোনাম...

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন