সোনারগাঁওয়ে নিরাময় কেন্দ্রে প্রবাসী হত্যার বিচার দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
![]() |
| ছবি; মুক্ত বাংলাদেশ |
এদিকে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ শনিবার (৬ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নিহতের তিন কন্যা, স্ত্রী ও কয়েক শত এলাকাবাসী অংশ নেন।
এ সময় নিহত ফয়জুলের শিশু কন্যা ওয়াকিয়ার একটি আর্তনাদ উপস্থিত সবাইকে অশ্রুসিক্ত করে তোলে। বুকে বাবার ছবি জড়িয়ে ধরে সে বলে, আমার বাবাকে যারা মেরেছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমার বাবা তো আর কোনোদিন ফিরে আসবে না, কিন্তু হত্যাকারীদের শাস্তি দিতেই হবে। অবুঝ শিশুর এই কান্নায় সেখানে উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আবেগঘন ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, উপজেলার কাঁচপুর বেহাকৈর এলাকার বাসিন্দা ফোছন আলীর ছেলে ফয়জুল মিয়া দীর্ঘ দিন প্রবাসে ছিলেন। তাকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের গাবতলি এলাকার ‘এভারগ্রীন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে’ ভর্তি করা হয়। কিন্তু গত বুধবার রাত ১০টার দিকে ওই নিরাময় কেন্দ্রেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, নিরাময় কেন্দ্রটির মালিক সজীব, রকি ও তাদের কর্মচারীরা ফয়জুল মিয়ার ওপর অমানুষিক ও বর্বর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে। পিটুনির চোটে ও তীব্র নির্যাতনের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিরাময় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা পলাতক রয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের বড় মেয়ে নূরজাহান বেগম বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলার তিন দিন পার হলেও পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় মানববন্ধনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
মানববন্ধনে নিহতের স্ত্রী মাসুদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি একজন অসহায় নারী। আমার তিন মেয়ের বাবাকে ওরা পিটিয়ে মেরে ফেলল। আমি প্রশাসনের কাছে হাত জোড় করে ভিক্ষা চাই, আমার স্বামীর হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে যেন সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।
নিহতের ভাই বিল্লাল হোসেন বলেন, আমার ভাই সুস্থ অবস্থায় হেঁটে নিরাময় কেন্দ্রে গেল, আর কয়েকদিনের মাথায় আমরা তার লাশ পেলাম! এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, এটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। জড়িত গাবতলি গ্রামের ইসমাইল মেম্বারের ছেলে রকি ও সজিবসহ ১০ থেকে ১৫ জনের যে খুনি দল আছে, তাদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন থামবে না।
ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধন শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা পরিষদ এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ফয়জুল হত্যার বিচার চাই, নিরাময় কেন্দ্রের নামে টর্চার সেল বন্ধ করো, হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করো, ইত্যাদি স্লোগানে চারপাশ প্রকম্পিত করে তোলে। স্থানীয়রা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনতিবিলম্বে আসামিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন