শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

সোনারগাঁয়ে ফেসবুক সাংবাদিকতার নামে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজি

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...

প্রতীক ছবি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় ইদানীং আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে তথাকথিত ফেসবুক সাংবাদিক ও লাইভিস্টদের আনাগোনা। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদ মাধ্যম, সম্পাদকীয় নীতিমালা বা নূন্যতম পেশাদারিত্ব ছাড়াই শুধু ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি কিংবা পেজে ভিডিও পোস্ট করেই অনেকে নিজেদের সাংবাদিক দাবি করছেন। 

অভিযোগ উঠেছে, এই ফেসবুক পোস্ট ও লাইভকে হাতিয়ার বানিয়ে এক শ্রেণীর অপসাংবাদিক সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইল ও হুমকি দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। এতে করে উপজেলার মূলধারার সৎ ও নিষ্ঠাবান সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তেমনি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও বিভ্রান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পেশাদার গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন মহলের মতে, তথ্যপ্রযুক্তির সুবাদে এখন সবার হাতে স্মার্টফোন থাকায় যে কেউ যেকোনো স্থান থেকে ভিডিও বা লাইভ করতে পারেন। এটিকে বড়জোর নাগরিক সচেতনতা বা কনটেন্ট ক্রিয়েশন বলা যেতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই তা সাংবাদিকতা নয়।

সোনারগাঁওয়ের বিভিন্ন হাট-বাজার, সরকারি অফিস, জমি সংক্রান্ত বিরোধের স্থান, তৈরি পোশাক কারখানা কিংবা ছোটখাটো যেকোনো ঘটনার খবর পেলেই গলায় অজ্ঞাত কোনো অনলাইন পোর্টাল বা ভুঁইফোড় সংগঠনের আইডি কার্ড ঝুলিয়ে হাজির হয়ে যাচ্ছে একদল যুবক। কোনো প্রকার তথ্য যাচাই (Fact-check) বা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত না করেই নিজেদের ফেসবুক আইডি বা পেজ থেকে সরাসরি লাইভ বা ভিডিও পোস্ট করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ডিলিট করা বা পোস্ট না করার বিনিময়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছে দাবি করা হয় বড় অঙ্কের টাকা। টাকা না দিলে চটকদার ও বিভ্রান্তিকর ক্যাপশন দিয়ে একপাক্ষিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা স্পষ্টত ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির শামিল।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব ভিডিওতে সাংবাদিকতার মূল নীতি যেমন বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনের বালাই থাকে না। বরং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি করাই এই চক্রের মূল লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।

এই বিষয়ে সোনারগাঁয়ের সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথে কথা বললে তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, সাংবাদিকতা একটি প্রাতিষ্ঠানিক পেশা। এর একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও আইনি দায়বদ্ধতা রয়েছে। ডায়েরিতে কিছু লিখলেই যেমন কেউ সাহিত্যিক হন না, তেমনি ফেসবুক আইডি বা পেজে একটা ভিডিও ছেড়ে দিলেই কেউ সাংবাদিক হয়ে যান না। ফেসবুক কেবল একটি প্রচারের মাধ্যম (Medium), এটি কোনো পেশার পরিচয় হতে পারে না। আর সাংবাদিকতার আড়ালে যারা হুমকি ও ব্লাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, তারা মূলত অপরাধী।

উপজেলার সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই ফেসবুক সাংবাদিকদের ছড়াছড়ি এবং ওপেন ব্ল্যাকমেইলিংয়ের কারণে মাঠপর্যায়ে যারা রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে মূলধারার গণমাধ্যমে সততার সাথে কাজ করছেন, তারাও নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের কাছে সাংবাদিকদের সামগ্রিক মূল্যায়ন ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল মনে করেন, সোনারগাঁয়ের সাংবাদিকতার ঐতিহ্য ও গৌরবময় ভাবমূর্তি ধরে রাখতে এবং এই চাঁদাবাজ চক্রের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মূলধারার সাংবাদিক সংগঠনগুলোর এখনই কঠোর ও যৌথ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

শিরোনাম...

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন