শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

সোনারগাঁয়ে রাতারাতি ‘বিএনপি’ সেজে নেয়ামতের দেদারসে গ্যাস চুরি

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...
ছবি; মুক্ত বাংলাদেশ
পটপরিবর্তনের সাথে সাথে রং বদলেছেন তিনি। ৫ আগষ্টের আগে যিনি ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতার ‘ডান হাত’ আজ তিনি বনে গেছেন ‘বিএনপি নেতা’। এই ভোলবদলের একমাত্র উদ্দেশ্য সরকারি সম্পদ লুটে নিজের অবৈধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখা। বলছিলাম নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে জঙ্গলঘেরা এলাকার অবৈধ চুন কারখানার মালিক নেয়ামত উল্লাহর কথা।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের একাধিক উচ্ছেদ অভিযানও থামাতে পারছে না এই সিন্ডিকেটের গ্যাস চুরি। প্রতিবার সংযোগ কাটার পর অলৌকিক ইশারায় তা আবার জোড়া লেগে যায়।
স্থানীয়রা জানায়, বিগত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আগে নেয়ামত উল্লাহ ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালামের একনিষ্ঠ কর্মী। সেই রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মহাসড়কের পাশে জঙ্গলে গড়ে তোলেন এই চুন কারখানা।
তবে ৫ আগস্টের পর রাতারাতি ‘পল্টি’ মারেন নেয়ামত। আ’লীগের তকমা ঝেড়ে ফেলে নিজেকে দাবি করতে শুরু করেন বিএনপি নেতা হিসেবে। আর এই নতুন রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল বানিয়েই তিনি নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছেন অবৈধ গ্যাসের মহোৎসব।
আওয়ামী লীগের এই দোসরের আকস্মিক ‘বিএনপি’ বনে যাওয়া এবং দলের নাম ভাঙিয়ে অবৈধ ব্যবসা করার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রবীণ বিএনপি নেতারা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে এক প্রবীণ বিএনপি নেতা বলেন, নেয়ামত উল্লাহর সাথে বিএনপির দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। সে একজন বহুরূপী সুযোগ সন্ধানী। দলের কোনো স্তরেই তার পদ-পদবি নেই। বিএনপির নাম ব্যবহার করে সে মূলত দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে এবং নিজের অবৈধ চুন কারখানা বাঁচানোর চেষ্টা করছে।
প্রশ্ন উঠেছে, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড যেখানে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে এই কারখানার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে এবং অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিয়েছে, সেখানে বারবার এই গ্যাস চোরেরা সাহস পায় কীভাবে? একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই সাহসের উৎস তিতাস গ্যাসেরই কিছু অসাধু কর্মকর্তা। প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের মাসোহারার বিনিময়ে তিতাসের একটি চক্র এই সিন্ডিকেটকে পেছন থেকে অদৃশ্য ‘শেল্টার’ বা অভয়ারণ্য তৈরি করে দিচ্ছে। ফলে অভিযান শেষ হতে না হতেই অদৃশ্য সুতোর টানে আবার চালু হয়ে যায় চুন তৈরির চুল্লি।
মহাসড়কের পাশে জঙ্গলঘেরা এই কারখানার কারণে একদিকে যেমন পুড়ছে রাষ্ট্রীয় কোটি কোটি টাকার গ্যাস, অন্যদিকে বিঘ্নিত হচ্ছে পরিবেশ। স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এই রাজনৈতিক রঙবদলকারী নেয়ামত ও তিতাসের অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত নেয়ামত উল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।


শিরোনাম...

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন