স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে অবৈধভাবে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এলজিইডিরই এক কর্মকর্তার করা অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এসব তথ্য উঠে এসেছে।
অভিযোগে বলা হয়, বেলাল হোসেন একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে এলজিইডিতে যোগদান করেন। তবে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের নির্দেশে তিনি প্রায় ৪০টি প্রকল্পে কাজ না করিয়েই শতভাগ বিল উত্তোলন করেন। পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সেই অসম্পন্ন সড়কগুলোর ওপর পুনরায় বরাদ্দ দিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হয়। এখনও ওই সময়কার অনেক ব্রিজ ও কালভার্টের কাজ অসম্পন্ন রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘ সময় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) পদে থাকার সুযোগ নিয়ে বেলাল হোসেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সুপারিশে প্রায় ১ হাজার ১২৫ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে এলজিইডিতে নিয়োগ দেন। এসব নিয়োগের বিপরীতে পদভেদে জনপ্রতি ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়াও সার্ভেয়ারদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্ব, ভারপ্রাপ্ত ও অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করেন তিনি। এমনকি কার্য সহকারীকেও একইভাবে উপসহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেন বেলাল হোসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সারা দেশে এভাবে প্রায় ৪১২ জনকে অবৈধভাবে পদোন্নতি দিয়ে তিনি ৪০ থেকে ৬০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।
অভিযোগে অবৈধ বদলি বাণিজ্যের বিষয়টিও উঠে এসেছে। জনপ্রতি ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে বদলি কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থাকাকালীন এলজিইডির মাঠ পর্যায়ের দুর্নীতি চরম পর্যায়ে পৌঁছায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তার সময়ে ঘুষ, অনিয়ম, দুর্নীতি ও কাজ না করে বিল উত্তোলনের অসংখ্য অভিযোগ উঠলেও তিনি একটিও বিভাগীয় মামলা করেননি। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে, দুর্নীতি দমন কমিশন একযোগে তিনটি জেলায় অভিযান পরিচালনা করতে বাধ্য হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অবৈধ আয়ের মাধ্যমে বেলাল হোসেন রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় ২ হাজার ৬০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেন। এছাড়া পূর্বাচলে ৫ কাঠার একটি প্লট, রংপুর জেলার ধাপ এলাকায় ৬ কাঠা জমির ওপর দুই ইউনিটের পাঁচতলা ভবন, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলায় প্রায় ২১০ বিঘা কৃষিজমি এবং রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকায় ১ হাজার ৫০০ বর্গফুটের আরও একটি ফ্ল্যাটের মালিকানা তার নামে রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বেলাল হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন পাঠিয়ে মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা দিলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

