অন্য প্রতীকে ভোট দিলে রেহাই নেই’: বিএনপির নেতার বক্তব্যে সোনারগাঁওয়ে উত্তাপ, ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

মুক্ত বাংলাদেশ
সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬ Last Updated 2026-02-02T02:31:26Z


নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো এবং ভোট প্রদানের গোপনীয়তা ভঙ্গের হুমকির অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-০৩ আসনে গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত ‘মাথাল’ মার্কার প্রার্থী জননেতা অঞ্জন দাস।

গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) মোগড়াপাড়া ইউনিয়নের ছোট সাদিপুর এলাকায় বিএনপি প্রার্থীর এক উঠান বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আজ এক বিবৃতিতে তিনি এই প্রতিবাদ জানান। অঞ্জন দাস বলেন, ভোটারদের ওপর নজরদারি এবং নির্বাচন পরবর্তী ‘রেহাই না দেওয়ার’ হুমকি বাংলাদেশের সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) ও নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন।


গত ৩০ জানুয়ারি সোনারগাঁওয়ের ছোট সাদিপুর এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলামের নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখেন থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন। সেখানে তিনি প্রকাশ্য জনসভায় ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, কে কোন প্রতীকে ভোট দিচ্ছে তা “মার্ক করা হবে”। এছাড়া ভোটারদের ওপর “গোয়েন্দা লাগানো হয়েছে” এবং অন্য প্রতীকে ভোট পড়লে নির্বাচন শেষে “কোনো রেহাই থাকবে না” বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।


গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস বলেন, “এই ধরনের ভাষা কেবল রাজনৈতিক অসৌজন্য নয়, বরং এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। ভোটারদের বোঝানো হচ্ছে তারা স্বাধীন নন, বরং তারা নজরদারির আওতায় আছেন। এটি গণতন্ত্র নয়, বরং ভয়ভিত্তিক দমননীতি।”


তিনি আরও উল্লেখ করেন, “প্রার্থী নিজে এই বক্তব্য না দিলেও তাঁর পক্ষে কর্মরত দলীয় পদধারী ব্যক্তির এই হুমকিমূলক বক্তব্যের দায় প্রার্থী আজহারুল ইসলাম এড়াতে পারেন না। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রার্থীর পক্ষে করা কর্মকাণ্ডের রাজনৈতিক ও আইনগত দায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ওপরই বর্তায়।”


সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষায় অঞ্জন দাস নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি অবিলম্বে এই ঘটনার স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একইসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ-০৩ আসনের ভোটারদের জন্য একটি নিরাপদ ও ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার জোরালো দাবি তোলেন।


অঞ্জন দাস দৃঢ়তার সাথে বলেন, “ভোট জনগণের মৌলিক অধিকার। কোনো দলীয় নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তি ভয় দেখিয়ে এই অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না। জনগণের হুমকি দিয়ে নয়, বরং জনগণের রায়েই নির্বাচনের ফয়সালা হবে।”

Comments
মন্তব্য করার ক্ষেত্রে অনুগ্রহ পূর্বক অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ, গালিগালাজ, ব্যাক্তিগত আক্রমণ, নাম বিকৃত করা থেকে বিরত থাকুন।
  • অন্য প্রতীকে ভোট দিলে রেহাই নেই’: বিএনপির নেতার বক্তব্যে সোনারগাঁওয়ে উত্তাপ, ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

জনপ্রিয়