নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নে শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তাঁর পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সোহেলের নেতৃত্বে এই হামলায় এক বৃদ্ধা ও নারীসহ একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে অভিযুক্ত ইসমাইল ওরফে বাবু সাংবাদিকদের এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়ে চরম ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেন।
ঘটনাটি ঘটেছে সনমান্দি ইউনিয়নের বাংলা বাজার দৌলতপুর এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, দুই পক্ষের ৬ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে খেলা নিয়ে ঝগড়া বাধে। এর জের ধরে সনমান্দি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদ হাছান জিন্নাহর অনুসারী আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল ও ইসমাইল বাবুর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শহিদ উল্লাহর বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।
অভিযুক্তরা হলেন, আ.লীগ নেতা সোহেল, ইসমাইল ওরফে বাবু (৩৫),রুবেল (৩৫),আনন্দ (২০), সোহাগ (২৫), রাতুল (২০), রিয়ান (২০) সহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সন্ত্রাসীরা কেবল শারীরিক হামলাতেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং ঘর ভাঙচুর করে আলমারি থেকে নগদ ১ লক্ষ টাকা ও ১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটে নিয়েছে।
আহতরা হলেন,শারীরিক প্রতিবন্ধী শহিদ উল্লাহ (৪০), উল্লাহর মা খাতেমুন (৭০), স্ত্রী আরিফা (৩৫)।
ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গণমাধ্যমকর্মীরা এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্ত ইসমাইল ওরফে বাবু সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, "সাংবাদিকদের এই এলাকায় ঢুকতে হলে আমার অনুমতি নিয়ে ঢুকতে হবে।" তার এমন বক্তব্যে উপস্থিত সংবাদকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইসমাইল বাবুর বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি নিয়মিত জুয়ার আসর বসিয়ে এলাকার তরুণ সমাজকে ধ্বংস করছেন। তার ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে বলেন, "আমি এ ঘটনার সাথে জড়িত না। ঘটনার সময় আমি বাজারে ছিলাম।" এরপর তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতার নাম উল্লেখ করে ফোন কেটে দেন।
সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিবুল্লাহ জানান, "এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
একজন অসহায় প্রতিবন্ধী পরিবারের ওপর এমন নৃশংস হামলা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী বাহিনীর মূলহোতাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

