শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

সোনারগাঁয়ে নাঈম হত্যা: খুনিদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের প্রতি বিএনপি নেতাদের আল্টিমেটাম

প্রকাশঃ


নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রাজমিস্ত্রি মো. নাঈম মিয়াকে (২২) নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে মিছিল করেছে এলাকাবাসী। আজ শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী পুরাতন বাজার এলাকায় কয়েক শ’ মানুষের অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি থেকে বক্তারা নাঈম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ফাঁসির দাবি জানান।


গত রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার পরমেশ্বরদী গ্রামে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত নাঈম ওই গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে। পেশায় রাজমিস্ত্রি নাঈম স্থানীয়ভাবে সুদের ব্যবসার সাথেও সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।


মামলার এজাহার ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত ৮টার দিকে নাঈম তার বড় ভাই নাসিমুল ইসলামের সাথে একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় একটি অজ্ঞাত ফোন কল পেয়ে তিনি দোকান থেকে বের হয়ে যান। ফোনে নাঈমকে বারবার বলতে শোনা যায়, "আমার কাছে টাকা নাই"। এরপর থেকেই তার ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি নিখোঁজ হন। নিখোঁজের প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ক্ষেত থেকে "ডাকাত ডাকাত" চিৎকার শুনে গ্রামবাসী ছুটে যান। সেখানে বস্তাবন্দি অবস্থায় নাঈমের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


মানববন্ধনে নিহতের বড় ভাই আজহারুল ইসলাম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন: "আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে কসাইয়ের মতো কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সে তো কারো ক্ষতি করেনি। আমরা এই খুনিদের বিচার চাই। যারা আমার ভাইয়ের বুক খালি করেছে, তাদের প্রত্যেকের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত আমরা শান্ত হব না।"


মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক করিম রহমান বলেন, "নাঈম একজন পরিশ্রমী যুবক ছিলেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।"

নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, "পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করলেও মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমরা চাই দ্রুততম সময়ে চার্জশিট দাখিল করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হোক।" এছাড়া মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি সাইফুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত সোমবার নিহতের বড় ভাই নাসিমুল ইসলাম বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযানে নেমে আবুল হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন