শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

সোনারগাঁয়ে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

প্রকাশঃ
0 জন এই প্রতিবেদনটি পড়েছেন


নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নে জনস্বার্থে ড্রেন সচল রাখার দাবি জানানোয় এক ব্যবসায়ীকে লাঞ্ছিত ও ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবলীগ নেতা পীর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের দাবি, চাঁদা না দেওয়ায় তাকে মারধরসহ তার পিকআপ ভ্যান পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী ইকবাল হোসেন জানান, শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চৌধুরীগাঁও এলাকায় তার বাড়ির সামনে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। ঠিকাদার ড্রেনটি বন্ধ করে তার ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা করলে তিনি আপত্তি জানান। ইকবালের দাবি, ড্রেন বন্ধ করলে এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে এবং প্রায় ৩০০ ফুট এলাকায় অন্তত ২ ফুট পানি জমে থাকবে। জনগণের এই দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে তিনি ড্রেনটি সচল রেখে কাজ করার অনুরোধ করেন।

ইকবাল হোসেন অভিযোগ করেন, এই দাবি তোলার পর থেকেই শম্ভুপুরা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পীর মোহাম্মদ তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। গতকাল উপজেলা প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) আলমগীর হোসেন সরজমিনে তদন্তে আসলে তার উপস্থিতিতেই পীর মোহাম্মদের বাবা ও ভাই ইকবালকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এই বিশৃঙ্খলার সুযোগে পীর মোহাম্মদ ইকবালের পকেট থেকে ব্যবসার ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে তিনি দাবি করেন।

পেশায় ডিম ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেনে আরও  জানান,"আমার পিকআপ ভ্যানটি বাড়ির পাশে রাখার জন্য পীর মোহাম্মদ মাসিক ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি আমার গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।"

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত পীর মোহাম্মদ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এলাকায় ব্যাপক প্রভাবশালী ছিলেন। তিনি সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নুর একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন  স্থানীয় কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকায় নানা সময় বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম মান্নানের শরণাপন্ন হন ভুক্তভোগী। সংসদ সদস্য জনস্বার্থ বিবেচনা করে এবং জলাবদ্ধতা রোধে ড্রেনটি সচল রেখেই রাস্তা নির্মাণের জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ প্রদান করেন।

ভুক্তভোগী ইকবাল হোসেন এই ঘটনায় প্রশাসনের কাছে জানমালের নিরাপত্তা এবং ছিনতাইকৃত টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

রাস্তা নির্মাণ কাজের ঠিকাদার মাজহারুল ইসলাম এই বিশৃঙ্খলার বিষয়ে তার অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন:"আমি এখানে শুধু কাজ করতে এসেছি। রাস্তার পাশে যার বাড়ি, সেই পীর মোহাম্মদের পরিচালনা এবং তার সুবিধামতোই বর্তমানে কাজ চলছে। স্থানীয় বিরোধের বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই, আমি কেবল কাজের প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি।"

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শম্ভুপুরা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পীর মোহাম্মদ তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন,"আমার বিরুদ্ধে আনা চাঁদা দাবি ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি মহল ইকবাল হোসেনকে দিয়ে এসব বলাচ্ছে। ড্রেন বা রাস্তা নির্মাণ নিয়ে সরকারি কাজে আমি কোনো বাধা দেইনি, বরং নিয়ম অনুযায়ী কাজ করার কথা বলেছি। সেখানে কোনো মারধর বা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। সিসিটিভি ফুটেজ বা নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে।"

বর্তমানে এলাকায় এ নিয়ে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যদিকে, স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক ক্ষেত্রেই পুরনো বিরোধ নতুন করে সামনে আসছে, তাই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন