শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

অন্যকে বাদ দিতে গিয়ে নিজেই ‘বাদ’ পড়লেন ডেপুটি কমান্ডার আলতাফ

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...


কথায় আছে, ‘পরের তরে গর্ত খুঁড়লে, সেই গর্তে নিজেকেই পড়তে হয়।’ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আলতাফ হোসেনের ক্ষেত্রে এই প্রবাদটি আক্ষরিক অর্থেই সত্যি হয়ে ধরা দিয়েছে। উপজেলার ১০৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে দেখা গেল, যাদের তিনি বাদ দিতে চেয়েছিলেন তাদের সঙ্গে নিজের নামটিও যুক্ত হয়েছে ‘বাতিল’ তালিকায়।

আওয়ামী লীগ সরকারের পটপরিবর্তনের পর গত বছর সোনারগাঁয়ের ১০৯ জন মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে জামুকায় (জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল) লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন আলতাফ হোসেন। তাঁর দাবি ছিল, এরা সবাই অবৈধভাবে সনদ গ্রহণ করেছেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর সোনারগাঁয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল গণশুনানি পরিচালনা করে।

জামুকার মহাপরিচালক শাহিনা খাতুনের নেতৃত্বে ওই শুনানিতে নথিপত্র পর্যালোচনা করে তদন্ত কমিটি দেখতে পায়, অন্যদের দিকে আঙুল তুললেও আলতাফ হোসেনের নিজের দাখিলকৃত নথিপত্রেই রয়েছে ব্যাপক অসংগতি। দীর্ঘ তদন্তের পর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ১০৩তম সভার সিদ্ধান্তে গত সোমবার (২ মার্চ) সারাদেশে ৭৮ জনের গেজেট বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সারাদেশে ৭৮ জন। এই তালিকায় সোনারগাঁ উপজেলারই ৫১ জন রয়েছেন। বাতিলকৃত তালিকার ৫৪ নম্বরে নাম রয়েছে অভিযোগকারী আলতাফ হোসেনের।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, আলতাফ হোসেনের নিজের নথিপত্রে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব থাকায় তাকে বাতিলের সুপারিশ করা হয়। তবে আলতাফ হোসেন এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে নারাজ। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন:"আমি শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আবেদন করায় প্রভাবশালী একটি মহল ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। আমি ভারতীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও কমান্ডার ছিলাম। আমি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদন করব।"

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অবিলম্বে বাতিলকৃত এই ৫১ জনের গেজেটভুক্ত সকল সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং সম্মানী ভাতা স্থগিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যে ব্যক্তি অন্যদের তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলার অভিযানে নেমেছিলেন, নিজেই সেই তালিকার শিকার হওয়ায় পুরো জেলায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক হাস্যরস ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।

শিরোনাম...

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন