সোনারগাঁয়ে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা,অভিভাবকদের তীব্র ক্ষোভ
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হলে ৩টি নির্দিষ্ট কক্ষে বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্ন বিতরণ করা হয়। পরীক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক সিলেবাসের সাথে প্রশ্নের অমিল দেখে কক্ষ পরিদর্শকদের জানালেও তারা বিষয়টি শুরুতে আমলে নেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তদের গাফিলতির কারণেই ভুল প্রশ্নে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়া হয়।
খবর পেয়ে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নতুন সিলেবাসের প্রশ্নপত্রের ব্যবস্থা করা হয়। তবে মাঝপথে প্রশ্ন বদলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা মারাত্মক মানসিক টেনশনে পড়ে যায়।
কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবকরা এই ঘটনাকে কেন্দ্র সচিব আব্দুল মতিন সরকারের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রধান অভিযোগ সিলগালা করা প্রশ্ন বিতরণের আগে কেন তা যাচাই করা হলো না? বোর্ড থেকে হারানো ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট অতিরিক্ত দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও, অনেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ পরিদর্শকরা সময়ের আগেই খাতা জমা দিতে বাধ্য করেছেন।
পরীক্ষার মাঝখানে প্রশ্ন এবং উত্তরপত্র বদলে ফেলার ঘটনায় শিক্ষার্থীরা খেই হারিয়ে ফেলেছে, যার প্রভাব ফলাফলে পড়তে পারে।
এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,আমার সন্তান সারা বছর নতুন সিলেবাসে প্রস্তুতি নিয়েছে। ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে সে এমনিতেই ভেঙে পড়েছে, তার ওপর নির্ধারিত সময়ও ঠিকমতো দেওয়া হয়নি। এই অব্যবস্থাপনার কারণে ফলাফলে ধস নামলে এর দায় কে নেবে?
ঘটনা প্রসঙ্গে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, ভুলবশত পুরনো সিলেবাসের প্রশ্ন দেওয়া হয়েছিল। আমরা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে অতিরিক্ত সময়ের ব্যবস্থা করেছি এবং স্বচ্ছতার সাথে পরীক্ষা সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছি।
অন্যদিকে, কেন্দ্র সচিব আব্দুল মতিন সরকার বিষয়টি স্বীকার করে একে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বলে দাবি করেন এবং জানান যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুত সমাধান করা হয়েছে। তবে দায়সারা এই বক্তব্যে আশ্বস্ত হতে পারছেন না অভিভাবকরা, তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন