বটতলার ছায়ায় লোকজ ঐতিহ্যের সুবাস, সোনারগাঁয়ে বউমেলার দ্বিতীয় দিন
সকাল থেকেই দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। নতুন শাড়ি আর ফুলের সাজে নববধূ থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ নারীরা থালাভর্তি ফল, মিষ্টি আর পূজার নৈবেদ্য নিয়ে ভিড় জমান বিশাল এক প্রাচীন বটবৃক্ষের নিচে। স্থানীয়দের কাছে এই বৃক্ষটি 'সিদ্ধেশ্বরী দেবী'র প্রতীক।
সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের বিশ্বাস, এই বটতলায় পূজা দিলে সংসারে সুখ-শান্তি বিরাজ করে এবং স্বামী-সন্তানের অমঙ্গল দূর হয়। মেলায় আসা এক পুণ্যার্থী জানান, পূবপুরুষদের আমল থেকে দেখে আসছি এই মেলা। সারাবছর অপেক্ষা করি এই দিনটির জন্য। এখানে মানত করলে দেবী বিমুখ করেন না।
মেলার মূল আকর্ষণ কেবল পূজা-পার্বণেই সীমাবদ্ধ নয়। মাঠজুড়ে বসেছে গ্রামীণ পণ্যের বিশাল সমাহার। মাটির তৈরি টেপা পুতুল, হাতি, ঘোড়া ও হাঁড়ি-পাতিল। বাঁশ ও কাঠের তৈরি ঘরসজ্জার সামগ্রী। মন্ডা-মিঠাই, জিলাপি আর বাতসার গন্ধে ম ম করছে মেলা প্রাঙ্গণ।
আয়োজক কমিটির কর্মকর্তা নিলোৎপল রায় জানান, এটি কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক মিলনমেলা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান্য থাকলেও সব ধর্মের মানুষই এই লোকজ উৎসবে শামিল হন। দুপুরে পুরোহিত উৎপল ভট্টাচার্য-এর পৌরোহিত্যে মূল পূজা শুরু হলে ভক্তদের ঢল নামে। কেউ কেউ মানত হিসেবে কবুতর ওড়ান, আবার কেউবা পাঁঠা বলি দিয়ে দেবীর সন্তুষ্টি কামনা করেন।
নারীদের এই বিশেষ মেলা নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, বউমেলা এই অঞ্চলের একটি প্রাচীন সংস্কৃতি। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মেলা প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রাখা হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন