আ'লীগ নেতা নেয়ামত উল্লাহর পকেটে সরকারের অর্ধকোটি টাকা
![]() |
| ছবি; সংগ্রহীত |
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের আগে নেয়ামত উল্লাহ সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালামের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেই প্রভাব খাটিয়েই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পিরোজপুর এলাকায় গড়ে তোলেন অবৈধ চুন কারখানা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর রাতারাতি ভোল বদলে তিনি এখন ‘বিএনপি’ সেজেছেন। মূলত অবৈধ ব্যবসার সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতেই তার এই রাজনৈতিক রংবদল।
অভিযোগ উঠেছে, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের চোখে ধুলো দিয়ে এবং অভ্যন্তরীণ কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে কয়েক মাসে অবৈধভাবে গ্যাস পুড়িয়ে চুন তৈরি করছেন নেয়ামত। স্থানীয়দের হিসেবে, এই দীর্ঘ সময়ে তিনি সরকারের অন্তত অর্ধকোটি টাকার গ্যাস চুরি করেছেন। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বারবার অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও কারখানা গুঁড়িয়ে দিলেও রহস্যজনক কারণে কয়েক দিনের মাথায় ফের জ্বলে ওঠে চুল্লি।
নেয়ামত উল্লাহর সঙ্গে বিএনপির দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। সে একজন বহুরূপী সুযোগ সন্ধানী। দলের নাম ভাঙিয়ে সে মূলত নিজের অবৈধ ব্যবসা বাঁচানোর চেষ্টা করছে এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে বলে দাবী স্থানীয় প্রবীণ বিএনপির নেতৃবৃন্দদের।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের একটি অসাধু চক্রকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের মাসোহারা দেন নেয়ামত। এই অদৃশ্য ‘শেল্টারের’ কারণেই প্রশাসনিক অভিযানের কোনো স্থায়ী প্রভাব পড়ছে না। অভিযান শেষে কর্মকর্তারা ফিরে গেলেই অদৃশ্য সুতোর টানে পুনরায় সংযোগ স্থাপিত হয়। এতে একদিকে রাষ্ট্র বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের চরম বিপর্যয় ঘটছে।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নেয়ামত উল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে তিতাস গ্যাস মেঘনা জোনের ম্যানেজার সুরজিত সাহা জানান, কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন,
নেয়ামত উল্লাহ ও বাচ্চুসহ সোনারগাঁয়ে যারা অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করে চুন কারখানা চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা জেলা অফিসে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা দিয়েছি। খুব দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন