অতিরিক্ত সময়ের থ্রিলারে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা
মিসৌরির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে তীব্র উত্তেজনা আর নাটকীয়তার কমতি ছিল না। এই জয়ের ফলে আগামী বুধবার আটলান্টায় প্রথম সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে রাখার চেষ্টা করে সুইজারল্যান্ড। তবে ম্যাচের ১০ম মিনিটেই লিড নেয় আর্জেন্টিনা। অধিনায়ক লিওনেল মেসির পাস থেকে চমৎকার এক হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দ্বিতীয় হাফে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে সুইসরা। ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে রিকার্ডো রদ্রিগেজের পাস থেকে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে সুইজারল্যান্ডকে সমতায় ফেরান দান এনদোয়ে (১-১)। তবে সমতায় ফেরার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তাদের। ৭২তম মিনিটে ম্যাচের চিত্র বদলে যায় যখন একটি ফাউলের নাটক করার (সিমুলেশন) অভিযোগে সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রেল এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড।
১০ জনের দল নিয়েও দারুণভাবে রক্ষণ সামলে ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। তবে ১১২তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হোসে ম্যানুয়েল লোপেজের পাস থেকে ডি-বক্সের বাম প্রান্ত দিয়ে ডান পায়ের এক দর্শনীয় বাঁকানো শটে গোল করে আর্জেন্টিনার জয় প্রায় নিশ্চিত করেন জুলিয়ান আলভারেস। চলতি বিশ্বকাপে এটিই ছিল আলভারেসের প্রথম গোল।
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (১২০ মিনিটে) কাউন্টার অ্যাটাক থেকে থিয়াগো আলমাদার শট সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে ফাঁকা জালে বল পাঠান লাউতারো মার্তিনেস। আর তাতেই ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজেদের টানা ১২ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখলো আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা সুইজারল্যান্ডের সেমিফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন এবারও অপূর্ণই রয়ে গেল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন