সোনারগাঁয়ে জমি নিয়ে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি মামলা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চর ভবনাথপুর এলাকায় ২০ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে মোস্তাক আহম্মেদ ও বকুল মিয়ার পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। মোস্তাক আহম্মেদের দাবি, জমিটি নিয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত শনিবার দুপুরে মোস্তাক আহম্মেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা ওই জমির পাশে কাজ করতে গেলে বকুল মিয়ার অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন মোস্তাক আহম্মেদের পক্ষের লোকজন।
সংঘর্ষে মোস্তাক আহম্মেদ, তার ভাই গোফরান উদ্দিন, ভাবি পারভীন ও লাইলী এবং ভাতিজা ইমন ও ইমরুলসহ উভয় পক্ষের একাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ঘটনার পর মোস্তাক আহম্মেদ বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অন্যদিকে, বকুল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, সংঘর্ষে তাদের পক্ষেরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
তিনি জানান, আহতদের মধ্যে তার ছোট ভাই রাসেলের মুখমণ্ডলের হাড় ভেঙে যাওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে স্থানান্তর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় বকুল মিয়াও বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে দুই পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করে পুলিশ উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে।
এরই মধ্যে সংঘর্ষ ও মামলা দায়েরের পর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, মোস্তাক আহম্মেদের পক্ষ থেকে আগে নির্মাণ করা একটি সীমানা প্রাচীর ভেঙে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। রাতের আঁধারে প্রাচীরটি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বকুল মিয়া তার লোকজন নিয়ে বিতর্কিত ওই জমিতে নতুন করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে যেকোনো সময় আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের বিষয়টি পুলিশের জানা ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা অমান্য করে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে মামলা রুজু করা হয়েছে। বিতর্কিত জমিতে গিয়ে কেউ নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ বা এমন কোনো কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, সেক্ষেত্রে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন