শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

সাভার-আশুলিয়ায় মাদক কারবার দমনে ডিবির নজরদারি

প্রকাশ:
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...

প্রতীক ছবি

ঢাকার শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানের ফলে কয়েকটি এলাকায় কারবারিদের তৎপরতা কমেছে। এদিকে অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ প্রচারের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচা তরুণদের একটি অংশের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্পাঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় কিশোর-যুবকদের মাদক থেকে দূরে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর দাবি রয়েছে দীর্ঘদিনের।

এ পরিস্থিতিতে ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এসব অভিযানে দায়িত্ব পালন করছেন একাধিক পদকপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যরা। পুলিশের পক্ষ থেকে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, আগে কিছু এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ শোনা গেলেও পুলিশের তৎপরতায় কারবারিদের চলাচলে পরিবর্তন এসেছে। তবে মাদক নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান কতটা স্থায়ী প্রভাব ফেলছে, তা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক নজরদারি ও স্থানীয়দের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা।

অন্যদিকে, অভিযান ঘিরে ডিবির এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ ছড়ানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, মাদকবিরোধী অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত একটি চক্র এ ধরনের প্রচারণার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা কিংবা প্রচারণার পেছনে কারা রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এসআই মতিউর রহমান বলেন, মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি ব্যক্তির প্রভাব বা পরিচয় বিবেচনায় নেন না। তাঁর ভাষ্য, “মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। আমার বিরুদ্ধে কারও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জানাতে পারেন। যেকোনো বৈধ তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।”

তিনি আরও বলেন, মাদকসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করলে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা ও সঙ্গীদের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সচেতন মহলের মতে, শিল্পাঞ্চলে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ, পরিবারভিত্তিক সচেতনতা এবং কর্মক্ষেত্রে তরুণ শ্রমিকদের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যাচাইয়ের জন্য যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।

ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশের সূত্রের দাবি, মাদক ও অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে শিল্পাঞ্চলে মাদক নিয়ন্ত্রণে এসব কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জনসাধারণের সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন