অপকর্মের অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলন ইউপি চেয়ারম্যানের
![]() |
| অর্থের বিনিময়ে বিতর্কিত প্রত্যয়ন দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমান। |
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কুশিয়ারা মার্কেটে সংবাদ সম্মেলনে আতাউর রহমান দাবি করেন, ১৯৭৭ সালের একটি দলিল এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করেই তিনি তোতা মিয়া ও ফজলুল করিম সরকার একই ব্যক্তি মর্মে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছিলেন। এতে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
চেয়ারম্যান বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে আমি নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সাধারণ মানুষকে ওয়ারিশ, ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধনসহ ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবা নির্বিঘ্নে দিয়ে যাচ্ছি।
প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আব্দুল হালিম গং একটি প্রত্যয়নপত্রের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। ১৯৭৭ সালের একটি দলিলের তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে তিনি প্রত্যয়নপত্রটি দেন।
আতাউর রহমানের ভাষ্য, প্রত্যয়ন দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট জমির ওয়ারিশরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পরে সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসি ল্যান্ড) কার্যালয় থেকে তদন্তের জন্য তাকে নোটিশ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আবুল কালাম এবং ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য নাছিমা আক্তারকে তদন্তে পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাক্ষর ও মোবাইল নম্বরসহ দেওয়া বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট দলিলের তথ্য যাচাই করেই প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে প্রত্যয়ন দেওয়ার অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে তিনি এর প্রতিবাদ জানান।
আতাউর রহমান সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমি টাকা নিয়েছি এর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করা হোক। প্রমাণ ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করে তার ভাবমূর্তি নষ্ট না করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি দাবি করেন, একটি মহল তার ভবিষ্যৎ নির্বাচনী রাজনীতি ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এসব অভিযোগ তুলছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে এসি ল্যান্ডের সঙ্গেও কথা বলেছেন এবং তার কাছে থাকা প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।
তবে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী মৃত তোতা মিয়ার ছেলে মো. মনির হোসেনের দাবি, তার বাবার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর তৈরি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি নথিতে নাম ‘তোতা মিয়া’ হিসেবেই উল্লেখ রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশ সনদেও একই নাম রয়েছে।
মনির হোসেনের অভিযোগ, পরমেশ্বরদী মৌজায় ১৫ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে আব্দুল হালিম গংয়ের সঙ্গে বিরোধের পর একটি দলিলে দাতা হিসেবে ‘ফজলুল করিম সরকার’-এর নাম ব্যবহার করা হয়। পরে তোতা মিয়া ও ফজলুল করিম সরকার একই ব্যক্তি—এমন মর্মে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রত্যয়ন দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় মনির হোসেন সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে তিনি দাবি করেন, জমি নামজারির পর তিনি এসি ল্যান্ড কার্যালয়ে একটি মিসকেস দায়ের করেন। ওই মামলার রায় প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তার বাবা তোতা মিয়া ও দলিলে উল্লেখ থাকা ফজলুল করিম সরকারকে একই ব্যক্তি হিসেবে প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এবং বারদী ইউনিয়নের শ্রমিক লীগের সভাপতি নাজমুল হক ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফ সরকারের প্ররোচনায় চেয়ারম্যান ওই প্রত্যয়ন দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে চেয়ারম্যান আতাউর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, নাজমুল হক ও শরিফ সরকার তার পাশের বাড়ির আত্মীয় হলেও প্রত্যয়ন দেওয়ার ঘটনায় তাদের কোনো ভূমিকা নেই।
অভিযোগের বিষয়ে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও তদন্ত কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. আবুল কালাম বলেন, তদন্তের অংশ হিসেবে এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। অধিকাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তোতা মিয়া ও ফজলুল করিম সরকার দুইজন ভিন্ন ব্যক্তি। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, প্রত্যয়নপত্রে শনাক্তকারী হিসেবে যার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেই ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য নাছিমা দাবি করেন, তিনি ওই প্রত্যয়নপত্রের জন্য কাউকে শনাক্ত করেননি। চেয়ারম্যান নিজেই তার নাম শনাক্তকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে দাবি তার।
চেয়ারম্যান আতাউর রহমান অবশ্য জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পরে প্রত্যয়নপত্রটি সঠিক নয় বলে জানতে পেরে সেটি স্থগিত করা হয়েছে।
অভিযোগে নাম আসা বারদী ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি নাজমুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন