সোনারগাঁয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভুয়া প্রত্যয়নের অভিযোগ
![]() |
| সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দিচ্ছেন অভিযোগকারী মো. মনির হোসেন। |
এ ঘটনায় মৃত তোতা মিয়ার ছেলে মো. মনির হোসেন সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নোয়াগাঁও ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী গ্রামের বাসিন্দা মৃত তোতা মিয়ার নাম তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর প্রস্তুত করা বিভিন্ন সরকারি ও ব্যক্তিগত নথিপত্রে একইভাবে উল্লেখ রয়েছে। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া তার মৃত্যু সনদ এবং ওয়ারিশ সনদেও মৃত ব্যক্তির নাম তোতা মিয়া লেখা রয়েছে।
তবে সম্প্রতি পরমেশ্বরদী মৌজায় ১৫ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে আব্দুল হালিম গংয়ের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হলে নতুন করে জটিলতা দেখা দেয়। মনির হোসেনের দাবি, আরএস রেকর্ড অনুযায়ী ওই সম্পত্তির মালিক ছিলেন তার বাবা তোতা মিয়া। কিন্তু একটি কথিত ভুয়া দলিল ব্যবহার করে অ্যানালগ পদ্ধতিতে জমিটি নামজারি করা হয়।
বিতর্কিত ওই দলিলে দাতা হিসেবে ফজলুল করিম সরকারের নাম উল্লেখ রয়েছে। পরে তোতা মিয়া এবং ফজলুল করিম সরকার একই ব্যক্তি—এমন মর্মে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রত্যয়ন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। প্রত্যয়নপত্রে ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য নাছিমার শনাক্তের ভিত্তিতে সনদ দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আবুল কালামের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তকালে স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতে তোতা মিয়া ও ফজলুল করিম সরকার একই ব্যক্তি নন বলে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মো. মনির হোসেন অভিযোগ করেন, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এবং তার খালাতো ভাই বারদী ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি নাজমুল হক ও একই ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফ সরকারের প্ররোচনায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ওই প্রত্যয়ন দিয়েছেন।
তার অভিযোগ, জমি নামজারির পর তিনি এসিল্যান্ড অফিসে একটি মিসকেস দায়ের করেন। ওই মামলার রায়কে প্রভাবিত বা ভিন্ন দিকে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তার বাবা তোতা মিয়া ও দলিলে উল্লেখ থাকা ফজলুল করিম সরকারকে একই ব্যক্তি হিসেবে প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, তার বাবার জমির পর্চা, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন শিক্ষাগত সনদে সর্বত্র তোতা মিয়া নাম উল্লেখ রয়েছে। ফলে ফজলুল করিম সরকার নামে তাকে শনাক্ত করার কোনো সুযোগ নেই।
অভিযোগে নাম আসা বারদী ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি নাজমুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনকল গ্রহণ করেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও তদন্ত কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. আবুল কালাম বলেন, তদন্তের অংশ হিসেবে এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। অধিকাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তোতা মিয়া ও ফজলুল করিম সরকার দুইজন ভিন্ন ব্যক্তি। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
প্রত্যয়নপত্রে শনাক্তকারী হিসেবে যার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেই ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য নাছিমা বলেন, তিনি ওই প্রত্যয়নপত্রের জন্য কাউকে শনাক্ত করেননি। চেয়ারম্যান নিজেই তার নাম শনাক্তকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, একটি দলিলের তথ্যের ভিত্তিতে তোতা মিয়া ও ফজলুল করিম সরকারকে একই ব্যক্তি উল্লেখ করে প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানতে পেরে প্রত্যয়নপত্রটি স্থগিত করা হয়েছে এবং নতুন করে তদন্ত চলছে।
শ্রমিক লীগ ও যুবলীগের ওই দুই নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তারা তার পাশের বাড়ির আত্মীয় হলেও প্রত্যয়ন দেওয়ার ঘটনায় তাদের কোনো ভূমিকা নেই।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন