শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

দুই মেলায় জুয়া-মাদকের অভিযোগ, নজরদারি কোথায়?

প্রকাশ:
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...


নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই দুইস্থানে অবৈধভাবে বসানো হয়েছে আনন্দ মেলা। উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের জামপুর মাঠ ও বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া এলাকায় নেকবর আলী মুন্সি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে অবৈধভাবে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। 

স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতকাকর্মীরা মাসব্যাপী শিশু কিশোর আনন্দ মেলার আয়োজন করে। আয়োজকদের দাবি,প্রশাসনের অনুমতি না থাকলেও স্থানীয় এমপি এ মেলা বসানোর অনুমতি দিয়েছেন।

জানা যায়, জামপুর ইউনিয়নের জামপুর খেলার মাঠে মেলা বসিয়েছেন সোনারগাঁ উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান, জামপুর ইউনিয়ন ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আলমগীর হোসেন, বিএনপি কর্মী শাহিন আলম ও আমির হোসেন, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া এলাকায় যুবদল কমী আবু তাহের, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি ইউনুস মিয়া। মেলায় নাগরদোলা, ইলেকট্রিক নৌকা, পুতুল নাচ, খেলনা, কসমেটিকস, মুড়িমুড়কি, ফুচকাসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের শতাধিক দোকানপাট বসেছে। মেলা শুরু হওয়ার পর থেকে জুয়াড়ি, মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, মেলায় বসানো খেলনা, কসমেটিকস ও ফুচকার দোকান থেকে প্রতিদিন ৫শ থেকে এক হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া ইলেকট্রিক নৌকা ও নাগরদোলা থেকে এক মাসের জন্য ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। মেলার ভেতরে বসানো হয়েছে লটারির নামে জুয়ার আসর। প্রতিদিন উচ্চ স্বরে মাইক বাজিয়ে শব্দ দূষণ করা হচ্ছে। এ অবৈধ মেলা দ্রুত বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করেছেন স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈদ্যেরবাজার নেকবর আলী মুন্সি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, স্কুল চলাকালীন সময়েও মেলা খোলা থাকে। ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে না এসে মেলায় আড্ডা দিচ্ছে। স্থানীয় নেতারা মেলা বসানোর কারনে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করা সম্ভব হয় না।

স্থানীদের অভিযোগ, প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে লোকজনকে মেলায় ডেকে আনা হয়। ফলে স্থানীয় স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মন দিতে পারছে না। এছাড়াও সন্ধ্যা হলেই মেলার মধ্যে জুয়ারী ও মাদক সেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের আড্ডা জমে। স্থানীয় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা এ মেলা বসিয়ে অবৈধভাবে টাকা উপার্জন করছেন।

জামপুর খেলার মাঠের মেলার আয়োজক সোনারগাঁও উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান বলেন, মেলায় ছোট ছোট পেলাপান ফুর্তি ফার্তি করে তাই মেলা বসানো হয়েছে। এ মেলা প্রশাসনের অনুমতি নেই। তবে এমপি সরাসরি অনুমোদন দিয়েছেন। তবে মেলায় জুয়া ও মাদকের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অস্বীকার করেন। জুয়া ও মাদকের বিষয়ে কোন প্রমাণ পাওয়া যাবে না বলে দাবি করেন।

বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া এলাকার মেলার আয়োজক যুবদল কর্মী আবু তাহের বলেন, একার পক্ষের এ মেলার আয়োজন সম্ভব না। আমিসহ অনেকেই এ মেলার সঙ্গে জড়িত। মেলায় আসলে সকলের নাম প্রকাশ করা হবে। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে এ মেলা বসানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সোনারগাঁ থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, মেলার অনুমোদনের কোন চিঠি থানায় জমা হয়নি। মেলা বসানোর বিষয়ে একাধিক অভিযোগ এসেছে। জামপুরের মেলা বন্ধ করার জন্য তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈদ্যেরবাজার মেলা বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অবৈধ এ মেলা উচ্ছেদে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, এ মেলা বসানোর বিষয়ে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। অবৈধ মেলা দুটি উচ্ছেদ করা হবে।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, ডিসি অফিস থেকে মেলার কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি। মেলা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, কাউকে মেলা বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। মেলা বসানোর অনুমতি ডিসি অফিস থেকে দেওয়া হয়। যেহেতু মেলা অবৈধ এ মেলা উচ্ছেদের জন্য অবশ্যই প্রশাসনকে অনুরোধ করা হবে।

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন