সোনারগাঁয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংকট, সড়ক-খাল-নদীতে ময়লার স্তূপ
![]() |
| মারিখালি নদীর পাশে সেতুর নিচে জমেছে বিশাল ময়লার স্তূপ, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। |
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোনারগাঁ পৌর এলাকায় আগে বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন থাকলেও বর্তমানে সেগুলোর কোনোটি নেই। স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পৌর এলাকার সাতটি ডাস্টবিন চুরি হয়ে যায়। এরপর থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ না হওয়ায় অনেক জায়গায় দিনের পর দিন ময়লা পড়ে থাকছে।
পিরোজপুর গ্রামের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম জানান, বাসাবাড়ির বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে নদীতে ময়লা ফেলছেন। এতে নদীর পানি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশেও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।
পৌর এলাকার আদমপুর গ্রামের সৈয়দ আবু তালেব বলেন, আগে পৌরসভার কর্মীরা নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে বর্জ্য সংগ্রহ করতেন। বর্তমানে সেই কার্যক্রম নিয়মিত না হওয়ায় বাসিন্দাদের ভোগান্তি বেড়েছে।
গোয়ালদী গ্রামের আল মাহমুদ সানি বলেন, দীর্ঘদিনেও স্থায়ী বর্জ্য ফেলার স্থান নির্ধারণ না হওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় ময়লার স্তূপ তৈরি হচ্ছে। গৃহস্থালি বর্জ্যের পাশাপাশি কোথাও কোথাও হাসপাতালের বর্জ্যও খোলা স্থানে পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত একটি নির্দিষ্ট ডাম্পিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তিনি।
মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল আলম বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। বৃষ্টির সময় বর্জ্য ও ময়লা পানি আশপাশে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, সোনারগাঁ একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা। এখানে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটক আসেন। তাই পর্যটন এলাকার পাশাপাশি পুরো পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সোনারগাঁ শাখার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মামুন বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই সংকট নিরসনে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। দ্রুত একটি আধুনিক ও স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, বিভিন্ন স্থানে ময়লা জমে থাকার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু ময়লা অপসারণ করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট এলাকায় বর্জ্য না ফেলার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সমস্যাটি স্থায়ীভাবে সমাধানে তিন ধাপে কাজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথমে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো পরিষ্কার করা হবে। এরপর বর্জ্য ফেলা বন্ধে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। সর্বশেষ উপজেলার জন্য পরিবেশসম্মত একটি স্থায়ী ডাম্পিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ জন্য সম্ভাব্য স্থান খোঁজার কাজ চলছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন